বাদামি কসাই পাখির ছবি আলোচনা


বাদামি কসাই – আবু বকর সিদ্দিক

সেদিন ফেইসবুকে এবং একই সাথে ফ্লিকারে ছবিটি দেখেই বহুদিন আগের কথা মনে পড়ল। সময়টা ১৯৯৩-১৯৯৪ হবে। নটর ডেম ন্যাচার স্টাডি ক্লাবের সদস্য হয়ে পাখি দেখা শুরু করেছি। তখন আমরা থাকতাম তল্লাবাগে। আমাদের তৃতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়ালে জুট কলোনির মাঠ দেখা যেত। সেখানে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফিল্ড এক্সপেরিমেন্টের জন্য বছরের একটা বড় সময় ধরে পাটের চাষ করা হতো। বাকী সময়টাতে খেলাধূলা করা যেতো।

বাদামি কসাই পাখিটি বাড়ির আশেপাশে প্রায় সবখানেই দেখা যায়। বিশেষত ঢাকা শহরে সেই সময় পাখি দেখিয়েদের কাছে এটি খুবই সাধারণ একটা পাখি হিসেবেই বিবেচিত হতো।

উপরের স্মৃতিচারণটুকুর সাথে জড়িয়ে আছে একটি বাদামি কসাই পাখি।  একদিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে জুট কলোনির মাঠে প্রায় মৃত একটা পাটের গাছে একটি কসাই পাখিকে ঠিক উপরের ছবির মতোই বসে থাকতে দেখেছিলাম। বসে ছিল আর বসে বসে লেজ নাড়ছিল। পাখিটি অদ্ভুতভাবে লেজ নাড়ছিল এবং দুর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল লেজটি যেন পাকাচ্ছে। অনেকটা বিড়াল জাতীয় প্রাণি যেমন লেজ পাকায় সেরকম। কোন পাখি যে এখাবে লেজ নাড়ায় ঐদিনই প্রথম তা পর্যবেক্ষণ করেছিলাম।

যাহোক, ছবিটি খুবই চমৎকার উঠেছে। ফোকাস, এক্সপোজার, কম্পোজিশন–এক কথায় পারফেক্ট। কালার টোনও চমৎকার এসেছে।

পাখির ঠোঁট থেকে লেজ পর্যন্ত পুরো অংশই ফোকাসে এসেছে। চমৎকার ফোকাসিং হয়েছে চোখ এবং পিঠের দিক। পাখিটির বসার ভংগি এবং তাকানোর ভংগিতে উঠে এসেছে তার স্বভাবসুলভ চাঞ্চল্য। খুবই অস্থির পাখি, চুপ করে বসে থাকার মতো পাখি নয় এটি। দেখে মনে হচ্ছে পাখিটি ক্যামেরার বিপরীত দিকেই তাকিয়ে ছিল কিন্তু ক্যামেরা এবং ফটোগ্রাফারকে দেখে কৌতূহলি হলে এদিকে তাকিয়েছে। যার ফলে ছবিটি হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত।

ছবিতে পাখির আশে পাশে বেশ কয়েকটি জংলা ঝোপের কান্ড দেখা যাচ্ছে যার কয়েকটা জমিনের গভীরতার কারণে আউট অব ফোকাস হয়ে গেছে। ছবিটিতে ডিস্ট্রাকশন নাই বললেই চলে। তবে পাখিটিরবাম দিকে গা ঘেঁষে একটি কান্ড লেজের কিছু অংশ ঢেকে দিয়েছে। মনে হচ্ছে ওটি না হলে হয়তো ছবিটি অন্যরকম হতে পারতো।

ব্যাকগ্রাউন্ডের সবুজ জমিন ব্লার হয়ে ছবির সৌন্দর্যকে অনেকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সাথে কমলা রঙের পাতার কারণে সবুজের মধ্যে কমলা একটা কন্ট্রাস্ট এসেছে যা ছবির ডানদিকটিকে একঘেয়েমি থেকে বাঁচিয়েছে।

এক্সোপোজার: ৪.৮/৫
ফোকাস: ৫/৫
জমিনের গভীরতা: ৪.৮/৫
কম্পোজিশন: ৪.৫/৫
ইমপ্যাক্ট: ৫/৫

সর্বমোট: ২৪.১/২৫
সার্বিক রেটিং:  ৯.৬/১০

 

পূনশ্চ: ছবির আলোচনা অনেকটাই ব্যক্তিগত অভিমতের উপর নির্ভর করে। মতপার্থক্য হলে বা আপনার কোন অভিমত থাকলে তা মন্তব্যে জানাতে অনুরোধ করছি।

+ There are no comments

Add yours